Mumbaiঅত্যন্ত ব্যস্ত একটি শহর।
সারাদিন বহু মানুষ তাদের নিজেদের বিভিন্ন প্রয়োজনে একজায়গা থেকে আর এক জায়গায় ছুটে বেড়াচ্ছে ।
কেউ নিজস্ব গাড়ি করে, আবার কেউ Public transport বাস, অটো বা লোকাল ট্রেনে ।
অফিস টাইমে বহু লোকের ভিড়ে স্টেশন চত্বরে পা ফেলা নাকি দুষ্কর হয়ে পড়ে ।
তবে রাতের দিকের লোকাল ট্রেনে তেমন ভিড় থাকে না ।
Mumbai এর Western Line– এর শেষ লোকাল ট্রেনটা সেদিনও খুবই ফাঁকা ছিল। অফিসের ভিড় শেষ হয়ে গেলে, রাতের দিকে যারা ওঠে তারা হয় ক্লান্ত, নাহলে একেবারেই চুপচাপ ।
সেদিন ঘড়িতে তখন রাতপ্রায় ১২টা ।
অর্ণব Bandra Station থেকে ট্রেনে উঠল। ওর নামার কথা Borivali Station এ ।
পুরো কামরায় মোটে চারজন ছিল – একজন বয়স্ক লোক, একদম্পতি, আর এককোণে বসে থাকা এক মেয়ে।
ট্রেন ছাড়ল। জানলার বাইরে অন্ধকার ছুটে যাচ্ছে ।
অর্ণব মোবাইল বের করে গান শুনতে যাচ্ছিল, তখন খেয়াল করল – সামনের মেয়েটা একদৃষ্টিতে তারদিকে তাকিয়ে আছে ।
অর্ণবের বেশ অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু সেলক্ষ্য করল, মেয়েটির চোখে কোনো অভিব্যক্তি নেই। না রাগ, না হাসি - কিছুইনা ।
অর্ণব অন্যদিকে তাকাল। দু-একটা স্টেশন পেরিয়ে গেল ।
হঠাৎ সে বুঝতে পারল –
কামরায় আর কেউ নেই ।
দম্পতি নেই । বয়স্ক লোকটাও নেই ।
“কখন নামল ?” – সে নিজেই ফিসফিস করল ।
সে তো দেখেনি কাউকে নামতে !
এখন পুরো কামরায় শুধু সে ..…… আর সেই মেয়ে ।
ট্রেন একটা স্টেশনে থামল । প্ল্যাটফর্ম প্রায় ফাঁকা ।
অর্ণব নেমে অন্য কামরায় যাবে ভাবছিল, কিন্তু দরজার কাছে এসে হঠাৎ থেমে গেল ।
পেছন থেকে সেই মেয়েটার গলা -----
“নানবেন না ………”
অর্ণব ধীরে ধীরে ফিরে তাকাল ।
মেয়েটা এখনও বসে আছে, কিন্তু এবার তার মাথাটা একটু কাত হয়ে আছে ----
যেন স্বাভাবিকের থেকে বেশি কাত।
“কেন?” – অর্ণব জিজ্ঞেস করল।
মেয়েটা ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল।
“কারণ ……… এই ট্রেনটা কোথাও থামে না।“
অর্ণবের বুক কেঁপে উঠল।
“কিন্তু ……… এটা তো স্টেশন !”
সে বাইরে তাকাল –
প্ল্যাটফর্মটা ফাঁকা …………
আর স্টেশনের নামের বোর্ডটা ঝাপসা।
এক সেকেন্ডের জন্য পরিষ্কার দেখা গেল –
নামটা কোনো পরিচিত স্টেশন নয়।
আবার চোখের পলকে অদৃশ্য।
অর্ণব আবার কামরার ভেতরে তাকাল –
মেয়েটা এখন তার একদম কাছে।
এত কাছে যে, তার ঠান্ডা নিঃশ্বাস অর্ণবের মুখে লাগছে।
“আপনি আগে কখনো ……… নামার চেষ্টা করেছিলেন?” – সে ফিসফিস করে বলল।
অর্ণব কিছু বলতে পারল না ।
মেয়েটা ধীরে ধীরে হাসল ।
“আমি করেছিলাম …….. “
হঠাৎ ট্রেনটা জোরে ঝাঁকুনি দিয়ে চলতে শুরু করল।
লাইট একবার নিভে আবার জ্বলে উঠল –
আর সেই মুহূর্তে, অর্ণব দেখল –
মেয়েটার পা মাটিতে নেই ।
সে একটু ওপরে ভাসছে ।
পরের স্টেশন আসার আগে ………
অর্ণবের মোবাইলে হঠাৎ নিজে থেকেই ভিডিও রেকডিং চালু হয়ে গেল ।
স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে –
সে একা বসে আছে ফাঁকা কামরায় ।
কিন্তু তার পাশে ……………
কেউ বসে নেই ।



