Kolkata - [ এই শহর শুধু আলো, সংস্কৃতি আর ইতিহাসের জন্য নয়; রাত নামলেই এর কিছু অন্ধকার অলিগলিতে লুকিয়ে থাকে এমন সব ঘটনা, যেগুলো আজও বহু মানুষ ভুলতে পারেনি। ]
২০০৯ সালের এক বর্ষার রাত। উত্তর কোলকাতার এক পুরনো জমিদার বাড়ি - লোকমুখে নাম চৌধুরী বাড়ি। বাড়িটা বহু বছর ধরে প্রায় পরিত্যক্ত। চারদিকে উঁচু দেওয়াল, ভিতরে বিশাল উঠোন, আর কাঠের সিঁড়ি। যেগুলোতে পা পড়লেই কেঁপে ওঠে।
সে রাতে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী অনির্বাণ আর শেখর এসেছিলেন পুরনো মিটারের তার পরীক্ষা করতে। রাত তখন প্রায় ১১টা। আশে পাশে মানুষ নেই, শুধু বৃষ্টি আর দূরের ট্রামের আওয়াজ।
বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই অদ্ভুত ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। অথচ বাইরে ভ্যাপসা গরম। হঠাৎই উপরতলা থেকে নূপুরের শব্দ - ঝন............ ঝন............ ঝন ...... শেখর বলেছিল, - "দাদা কেউ আছে নাকি? কোনো উত্তর নেই। কিন্তু নূপুরের শব্দ আরও কাছাকাছি আসে।
অনির্বাণ টর্চ জ্বালিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকাতেই দেখে - সাদা শাড়ি পরা এক মহিলা দাঁড়িয়ে, মুখটা স্পষ্ট নয়, কিন্তু চোখ দুটো অস্বাভাবিক ভাবে বড়। তিনি কিছু বলছেন না, শুধু ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নামছেন।
পরের মুহূর্তেই টর্চের আলো নিভে যায়। এক সেকেন্ডের জন্য সম্পূর্ণ অন্ধকার। আর তারপর - সে এক বিকট কান্নার শব্দ।
ভয়ে দু'জনেই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। বাইরে এসে দেখে - ঘড়িতে তখন ঠিক ১১টা বেজে ৪০। কিন্তু ...... তারা ভেতরে ঢুকেছিল মাত্র পাঁচ মিনিট আগে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অনুযায়ী, ভেতরে অবস্থানের সময়কাল কমপক্ষে ২০ - ২৫ মিনিট হওয়ার কথা। এই সময়গত অসামঞ্জস্যের কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকালে স্থানীয় এক বৃদ্ধ জানালেন, বহু বছর আগে ওই বাড়ির এক বধূ আত্মহত্যা করেছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি নাকি সাদা শাড়ি পরেই সিঁড়ি থেকে পড়ে যান। রাত ১১টা ৩০ থেকে ১২ টার মধ্যে আজও অনেকে নূপুরের শব্দ শোনে।
বর্তমানে, বাড়িটি এখনও পরিত্যক্ত। বিদ্যুৎ সংযোগ অকার্যকর। প্রতিবেশীদের দাবি, মাঝে মধ্যে গভীর রাতে ঘরের ভেতর আলো দেখা যায়, যদিও কোনো বৈধ্য সংযোগ নেই।
[ঘটনাটি কোনোভাবে প্রমাণযোগ্য নয়, তবে একাধিক সূত্র ও প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মিল একটি নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দেওয়াও ক্টহিন। আজও রাত নামলেই ওই বাড়ির সামনে লোকজন থামতে চান না।]



