পরিনীতার বাবাইদার মত আমার আছে রাহুলদা। আমি যখন ক্লাস টুয়েলভ, রাহুলদা তখন এম.এস.সি ম্যাথ ফাইনাল ইয়ার, যাদবপুর ইউনিভার্সিটি। আমার বাড়ির কয়েকটা বাড়ি পরেই রাহুলদাদের বাড়ি। আমি আবার অঙ্কে খুব কাঁচা। তাই মা রাহুলদার কাছে অঙ্ক পড়তে পাঠাত। আর আমি যেতাম ওকে দেখতে।
লম্বা পেটানো চেহারা, ফর্সা রঙ, সবথেকে আকর্ষণ করে ওই তীক্ষ্ণ চোখদুটো, যেন আমার ভেতরটা পর্যন্ত দেখতে পাচ্ছে; ওর পড়া বোঝানো, ওর হাসি... আমার দুনিয়াটা কেমন যেন ঘেঁটে যেত। মনে হয় যেন hiii এটা চলতেই থাকুক...যাকে অঙ্কে ইনফিনিটি বলে। এইভাবেই চলছিল জীবন। দাদা থেকে সম্পর্কটা প্রেমে পরিণত হয়। তবে সেই একতরফা। আমার বান্ধবীদের প্রায় সবাই আমার সম্পর্কে জানতো। তখন বেশ প্রেমে গা ভাসিয়েছি। মনে মনে ভাবতাম এইভাবেই জীবন কাটিয়ে দেবো একে অপরকে জানবো, বুঝবো আর ভীষণ ভালোবাসবো। যতটুকু সময় ফাঁকা পেতাম সেই সময়টা অঙ্ক বোঝার নাম করে রাহুলদার ঘরে গিয়ে বসে থাকতাম। কেমন যেন স্বপ্নে ভাসতাম আমি। একদিন রাহুলদা আমার হবে...ঠিক হবেই।
কাল সন্ধ্যেয় আমাকে ডেকেছিল রাহুলদা।
- এই অস্মি, শোন।
- হুম বলো কী বলবে।
- বাব্বা এত কিসের তাড়া তোর?
- কত্ত কাজ জানো না? ঘরের কাজ করি আমি।..হুঁহ
- হ্যাঁ, কাজ করে তো উল্টে দিস।
- তোমার মত নাকি দিনরাত বইয়ে মুখ গুঁজে বসে থাকব!
- যাঃ, বকিস না তো
- তুমিই তো ডাকলে।
- ওহ হ্যাঁ। সামনের রবিবার আসিস। একজনের সঙ্গে মিট করাবো তোকে।
- কে কে ? গার্লফ্রেন্ড নাকি?
- হ্যাঁ। তুই কী করে জানলি?
পৃথিবীটা যেন থমকে গেল। আবার কি সেই একই গল্প! কদিন ধরে অবশ্য খেয়াল করছিলাম কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে রাহুলদা। গভীর রাত অব্দি ছাদে ঘোরাঘুরি করত ফোন নিয়ে। কেমন যেন অন্যমনস্ক ভাব সবসময়। তবে সেটা যে এসবের জন্য বুঝতে পারিনি।
- ওহ। আ-আমি আসি। যাবো রবিবার।
- কাউকে বলিসনা কিন্তু।
- ন-না না।
আজ দোল। আজকের প্ল্যানটা কাল রাতেই ভেবে নিয়েছিলাম। শাড়ি পরে বিকেলে আবির নিয়ে রাহুলদার বাড়ি গেলাম। "কাম"— বড় বড় মহাপুরুষেরা এই রিপুর থেকে মুক্তি পায় না, সেখানে রাহুলদা তো কোন ছার। শাড়িটা আটপৌরে ভাবে পরা হলেও বেশ অবিন্যস্ত । বাম কাঁধের ওপর দিয়ে বিছিয়ে দেওয়া ভারী আঁচলটাও যেন নিজের আড়মোড়া ভেঙ্গে উঠতে পারে নি । সাপের মতন ওনার সুগভীর স্তন বিভাজিকার মাঝে সরু হয়ে শুয়ে রয়েছে । ব্লাউজের ওপরের দিকের দুটো বোতাম খোলা, সাদা শাড়ির সরু আঁচলের ফাঁকে ঘামে ভেজা শাঁখের মত কোমর, শাড়িটা নাভির অনেক নীচে। সত্যি বলতে তলপেটের অনেক নীচে শাড়িটা আলগা করে লেগে আছে, আর শাড়িটা দিয়ে লজ্জা ঢাকতে কোমরে অলস অজগরের মত নেতিয়ে রয়েছে একটা কোমরবন্ধ।... ব্যস আমাকে আর কিছু করতে হয়নি। কয়েকটা ঘন্টা আমি নিজের শরীরটা রাহুলদাকে দিয়ে দিয়েছি। রাহুলদাজোর করে আমাকে ওর নিজের কাছে টানলো, বিছানায় দুটো শরীর যেন কিছু খুঁজতে লাগলো একে অপরের থেকে, রাহুলদার শরীর চাইছে উষ্ণতা আর কামসুখ আর আমার শরীর তখন এক মাদকতা খুঁজে চলেছে। সেই মাদকতা রাহুলদার শরীরে থাকলেও মন যে অন্য কিছু পাবার জন্য ব্যাকুল। দুটো শরীরের নিঃশ্বাস এক হতে শুরু করেছে, দুই ঠোঁটের আর কোনো দূরত্ব নেই তারা গভীরে ডুব দিয়েছে। আমি এখন পুরো নগ্ন, ও বারবার আমাকে জড়িয়ে ধরছে। ওর হাত ওর কোমর বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো, আমার পেট-কোমর-স্তনযুগল নিয়ে খেলা করছে রাহুলদা। আমার স্তনে নিজের ঠোঁটের চাপ একটু একটু করে বাড়ায় ও …আস্তে আস্তে সেটা কামড়ে পরিণত হয়। ধীরে ধীরে দাঁত দিয়ে কামড় বসাতে বসাতে নীচের দিকে নামতে থাকে রাহুলদা। এরপর নেমে আসে নাভির কাছে। এরপর আরো নিচের দিকে নামতে শুরু করে…আমিও আজ হয়ত পরিণীতা...সিঁদুর না পরা হোক! ওই ঠোঁটের মাঝে ঠোঁট পাওয়া টাই হয়তো আমার জীবনের পূর্ণতা, অনুভবে না হয় সে আমায়!
কিন্তু আমি তো রাহুলদাকে শুধু কয়েকঘন্টার জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য পেতে চেয়েছিলাম। এসব কী করছি আমি!! এভাবে আমার ভালোবাসাকে এইভাবে ছোট করে দিতে পারি না, নিজের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এলো, বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লাম। কিছুটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম রাহুলদার দিকে। এত রাগ, কষ্ট, দুঃখ, অভিমান, যন্ত্রণা—আর পারলাম না...কেঁদে ফেললাম। রাহুলদার কপালে আলতো করে চুমু দিয়ে বললাম, "সুখী হও তুমি, ভীষণ সুখী হও"।
এখন নিজের ঘরে এসে বসে আছি, খুবই নিঃস্ব লাগছে। মাথার উপর ফ্যানটা বনবন করে ঘুরছে, আমাকে ডাকছে মনে হয়। নেহাৎ শুন্য থেকে ঝুলে পড়াই তো পূর্ণচ্ছেদ। হঠাৎ মায়ের গলা পেলাম। ইস, কীসব ভাবছি আমি! নিজেকেই নিজে কথা দিলাম এবার নিজেকে বদলাতে হবে। আশেপাশে কত যুগল প্রেম করছে, হয়তো এর মধ্যেই কত রাহুলদা লুকিয়ে আছে। তবে আজ আমার মন অনেকখানি হালকা, আমি হেরে যাইনি, আমি তো শুধু ভালোবেসেছিলাম। ভালোবাসলে ভালোবাসা ফেরত পেতেই হবে এমন কোথায় লেখা আছে!
.
.
কলমে : tumi ar ami
ছবি : subrata debnath

